সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

সেপ্টেম্বর, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

Kaaler sondi

  কালের সন্ধি Biddamay Sarkar অজপাড়া গায়ের এক কলেজে এইচ এস সি পরীক্ষা চুকিয়েছি অনিরুদ্ধ নন্দি।শ্যামনগর মহাবিদ্যালয়" কলেজের নাম।  নিতান্তই অজপাড়া বলা চলে না। এতে নগরায়নের পদযাত্রা শুরু হয়েছে মাত্র। অনিরুদ্ধ এই কলেজের নামজাদা ছাত্রই ছিলো বটে। কবিতা লিখতে ও আবৃত্তিতে অনিরুদ্ধ কলেজে অদ্বিতীয়।  তার আরেকটা মস্ত গুন ছিলো, সেটাও কোনো দিক থেকে কম নয়। তা হলো ; গুছিয়ে যুক্তি তর্ক করা। অল্পদিনেই তার খ্যাতি কলেজের গন্ডি পেরিয়ে গেছে । বাজারে, খালের পাড়ের বাড়িগুলোতে অনিরুদ্ধের কথাই আলোচনা হয়। শান্ত স্বভাবের জন্য তাকে ভালোবাসতো সবাই। অনেকেই অনিরুদ্ধের কাছে আসে ছেলেকে পড়ানোর জন্য। কিন্তু সে পড়াতে রাজি হয়নি। তার পড়াশোনার পরে বাকি সময়টা সাহিত্য চর্চা করে কাটিয়ে দেয়। এভাবে বেশকিছু দিন কেটে যায়। প্রমিলা নামের এক মেয়ে পড়তো একই কলেজে।  অনিরুদ্ধ মেয়েটির প্রেমে পড়ে যায়। সত্যি বলতে, কোনো মেয়ের প্রতি এই প্রথম তার মনে প্রেম জেগে উঠেছে। কিন্তু মুখ ফুঠে এখনো কিছুই বলা হয় নি।  দুটি মন যে অত কাছাকাছি আসতে চায়, এত আকর্ষণ করে, দুর্দমনীয় আকর্ষণ। গতকাল পরযন্ত ও তার বোধগম্য ছিলো না। যে অনি পড়া...

রক্তে লেখা বর্ণ

  রক্তে লেখা বর্ণ বিদ্যাময় সরকার মুখে বলা বুলির মতোই, অন্যায় অত্যাচার সহ্য করেছি কতই লড়েছে বাঙালি জীবন রেখে বাজি রক্তে লেখেছে বর্ণ ষড়যন্ত্র আর অবিচারে বর্ণ হয়ে গেছে অশুচি তাইতো তাজা রক্ত দিয়ে, বর্ণ শুদ্ধিতে বারবার ধুয়েছি শূন্যে ভাসমান বর্ণ নিয়েছি হাতে ক্ষত -বিক্ষত দেহ শত্রুর আঘাতে তবুও লড়েছে বাঙালি জীবন রেখে বাজি রক্তে লিখেছে বর্ণ বাংলা থেকে সোনার খনি গেছে উড়ে ঘাতকের থাবায় সুদূর গগন পাজরে এহেন, খাঁটি সোনা কোনো মূল্যে যায় না কেনা এদেশের হৃদয় থেকে পাওয়া লড়েছে বাঙালি জীবন রেখে বাজি রক্তে লিখেছে বর্ণ অত্যাচারীর দম্ভ করে চূর্ণ মাতৃভূমির আশা করেছি পূর্ণ লড়েছে বাঙালি জীবন রেখে বাজি রক্তে লিখেছে বর্ণ বাংলার নদীপথ বেয়ে,  পাহাড়ি জমি পেরিয়ে তারা আসবে আবারো যদিগো মর্যাদা হারায় রক্তে লেখা বর্ণ।

পেঁচা-পেচী

পেঁচা-পেচী বিদ্যাময় সরকার রাখাল মামার ছাউনির উপর বাঁকা তেতুল গাছ ঐ গাছের শাখা-প্রশাখায় পেঁচা-পেচীর বাস। রাখাল মামা করবে বিয়ে বধূর হাতটি ধরে তাই না শোনে গাছের পেঁচা কত ফূর্তি করে রাখালের বিয়ের নিমন্ত্রণে পেঁচা-পেচী যাবে কূর্মা, পুলাও -বিরিয়ানি স্বাদে-স্বাদে খাবে।

মনোমুগ্ধকর মুহূর্ত

  মনোমুগ্ধকর মুহূর্ত  বিদ্যাময় সরকার   এই ভরা বর্ষায়, স্রোতের মোহনায় নৌকা লাফিয়ে চলে পুবদিকের ঐ বাড়িতে কোন রূপসী আছে দাড়িয়ে একবার চেয়ে দেখো মিতা তাহার চোখে কিসের ইশারা মিতা, কাধ থেকে হাত সরিয়ে ঘুরে দাড়ালো রূপ দেখে তার চোখ জোড়ালো। প্রাণতরীতে লাগলো প্রেমের ঢেউ কীসের আশে, কল্পলোকে হারালো মজনু জানলোনা তা কেউ এক পলকের দেখা তারে পাগল করলো বেশ দেখা না দেখার ইচ্ছেটার রয়ে গেলো রেশ। মনে মনে বলে যায়, ওগো মায়াময়ী সোনালী মূর্তি যখন আমার সামনে তোমার মুখ নেমে আসে ইহার পরে জগতের অন্য মুখ না আর ভাসে
  হৃদমাঝার বিদ্যাময় সরকার  ওরে আমার  বৈরাগী  গেলে কেনে দেশ ত্যাগি আবার কবে আইবে দেশে  আমি বাঁচি তোরই আশে এসে যদি  না পাও মোরে খুঁজে দেখো হৃদ মাজারে। পেঁচা  কইতে সাধ করে  আগে যেমন কইতাম তোরে। দেশে আবার আইলে ফিরে  ডাকব পেঁচা মনটা ভরে।  মনে আছে তোর  পড়ার সেই ঘর  প্রত্যহ, যেথা বসাইতাম আসর  আকাশ যখন হইত ধূসর।  তুই যেবার চিতলা গেলি  চটপট করে পরাণ খালি মন টিকলো না ঘরেতে  চিতলা গেরামে হইলো যেতে।  ঐ, রাতে ছিলো যাত্রাপালা  সেদিনটা কি যায়রে ভোলা! রূপ্পা ছিলো সাথে তোর  প্যান্ডলের ধারে আছিলো যে ঘর। মুই গিয়েছি দিলো দেখাইয়ে  দেইখা আনন্দে উঠছিলে লাফিয়ে।  চোখে চোখে হইলো কথা  শান্ত হইলো মনের ব্যাথা।
 ভ্রমনের বায়না  পিলে শর্মা  ইচ্ছে খুব করিতে ভ্রমণ  বাবার কাছে বায়না ধরেছি  ঘুরতে যাবো সুন্দরবন আমার বায়না শুনে বাবা  জোরে মারলো হাসি বাবা মনে হয় খুশি বাবার হাসি দেখে বুঝলাম  হাসিতে-হাসিতে বাবা বলিল কি বলে বাবুধন! সুন্দরবনে বাঘ থাকে  করে নিবে সে ভক্ষণ  তখন আমি বাবাকে বলিলাম  এখন আমি ছোট নয়  মিথ্যা কথা বলে আমার  মনে ধরাবে ভয় 
  অন্তরঙ্গ বন্ধন বিদ্যাময় সরকার কুটিলতা, অন্যায়-অত্যাচার আবার চারিদিকে তাই ভূমি ফেটে গেলে ভূগর্ভে ঢুকে যেতাম সমুদ্রের ঢেউ ফুসে উঠলে, অকূলে ভেসে যেতাম এমন দুর্দিনে শান্তির আশ্রয় কোথা পাই। শৈশবের দিনগুলো দীঘির স্বচ্ছ জলের মতো বয়ে গেলো জীবনের ধারা-দিশা ছিলো না কিছু চলার পথে টান ছিলো না পিছু জীবনের ক্ষেত্র হলো বড়, বর্ষার চঞ্চল নদী করে মরমর হয়ে গেলো এলোমেলো ক্ষণেকে ভাবিয়া থাকি, দীর্ঘনিশ্বাস বিসর্জন দিয়া পৌঁছে যাবো শান্তির চির নির্জনে এই অন্তরঙ্গ বন্ধন ছিড়িতে হইলেও মরিয়া নিস্তেজ চিত্তহীন মন নিয়া, ভাঙ্গি তাহা কেমন করিয়া কুবৃত্তি -জীববৃত্তি ধরে আমায় জড়িয়ে হায়.....হায় মনরে। মনকে বাহন করে, সত্যকে সঙ্গে নিয়ে পরিণত হও মানবে।

অভিমানী

  অভিমানী বিদ্যাময় সরকার হে তিলোত্তমা, হে চরুলতা আর কত নামে ডাকি তোমায় তোমার উপেক্ষায়, তোমার প্রতীক্ষায় আমার আকুল প্রাণ বারবার কেঁদে যায় জানিনা কোন ভুলে, এহেন ও ছলে দাও নাকো সাড়া তোমার কি কাঁদেনা প্রাণ, দেখে তুমিহারা এই আমি কেমন পাগলপাড়া। ক্ষমা কি পারো না করতে তোমার এই কাঙ্গালেরে। আবার যদি  করো  অভিমান ভেবে তাই শিহরিয়া উঠে প্রাণ আমার সকল কথা, সকল গান জীবনের তরে তোমায় করিলাম দান

পরীক্ষার সময়ের দৃশ্যপট

পরীক্ষার প্রস্তুতি    প্রস্তুতি   বিদ্যাময় সরকার  পরীক্ষার আগমনে, মনের শান্তি ব্যস্ত হলো পলায়নে সবকিছু বাদ দিয়া, বসিয়া থাকি বই-পুস্তক লইয়া।  বই হাতে রাত বাড়ে, ঘুম আসে চোখ ভরে। বাবার ডরে, বই থুইতে বুক ধুক -ধুক করে। যত আছে আলসি পদতলে চাপিয়া  শীতের রাতে পড়িতে হয় প্রত্যুষে উঠিয়া। ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখি, পরীক্ষার সময় পার হইলো ঘুমেতে থাকি।  হয়ে আতংকিত, বিছানা ছাড়তে সময় করলাম না গত।  রাতর বাজে পাঁচটা, চট করে ধুয়ে এলাম চোখটা।  শীতে খুর-খুর করি,কাথা-কম্বল গায়ে দিয়া পড়ি।  কটা দামাল ছেলে, পুকুরে নেমে জল হাতে 'তেল না পানি' বলে।  তেল বলিলে, ঝাপিয়ে পড়ে পুকুরের শীতল জলে। ডিম তরকারি রাধা, খেতি গেলে মা দেয় বাঁধা।  শিকায় ঝুলছে কলা, কাছে গেলেই বাবা বলে - কেটে দেবো গলা। পরীক্ষায় গেলো যারা, ভক্তি দিতে দিতে হলো সারা। ঠাকুর ঘরে, চৌকাঠে,ময়মুরুব্বি আরো আছে তুলসীর নীচে। পরীক্ষার সময় হলো, ছেলেরা ধুমধাম করে গেলো। সীট খুজতে -খুজতে ঘাম দেয় গায়ে, ব্যাথা করে মাথাতে।  ঘন্টা বেজে উঠলো,যে যার সীটে বসলো। হল পরিদর্শক আসিলো, প্রশ্ন-উত্তরপত্র বিলি করে দিলো। নীর...

উদাস পথিক

উদাস পথিক   উদাস পথিক  বিদ্যাময় সরকার  মাথায় পাগড়ি, সারা গায়ে ঝরছে ঘাম পায়ে খড়ম, পথ চলছে অবিরাম। বাবড়ি চুল পড়ে আছে উদাস চোখের উপরে। শীর্ণ দেহ আর শ্রান্ত মুখে তার বোঝায় শুধু দীনতার ভার। পুরোনো একখানি ব্যাগ কাঁধে নড়বড়ে লাঠিও আছে হাতে। উদাস চোখের চাহুনি আকাশ কি বোঝেনি? পথিক চলে তাহার আপন মনে কত ভাবনা উঠে-পড়ে মনের ভিতরে। উদাস চোখের চাহুনি বাতাস কি বোঝেনি? কে জানে একটু শুয়েছিল কোন প্রাতে চলার পথে ক্লান্ত সে জিরোয় পথে - পথে। উদাস চোখের চাহুনি ঝিলের বারি কি বোঝেনি? প্রকট রোদে যাচ্ছে তাহার পিঠ পুড়ে তেষ্টায় যাচ্ছে তাহার গলা শুকিয়ে। উদাস চোখের চাহুনি সবুজ দূর্বাদল কি বোঝেনি? চলছে, আরো চলছে -অবিরাম চলছে আবার, ক্লান্ত হয়ে জিরোয় পথে-পথে। গাছের ছায়ায় বসে, চোখ মেলে গগন পানে জলপান করে, পরে টান দেয় গানে। পথিক আজ হাড্ডিসার বৃদ্ধ একসময় তারও  ছিলো ঐশ্বর্য। আজ তার মাথা গোজার ঠাঁই নেই একা করে দিলো সবাই গুনে ধরলো যেই। চোখ বন্ধ করলে রাত, খুলিলে দিন তোমার, তার ও আমার সব এক জলাধারে লীন। পথিকের সার অবিরাম যাত্রা এ যেন অনন্তময়ের পরম মহিমা।...